সরবরাহ উদ্বৃত্তের কারণে জ্বালানি তেলের দরপতন

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এছাড়া সরবরাহ উদ্বৃত্তের সম্ভাবনাও পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১৮ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬১ ডলার ১১ সেন্টে। একই সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলে ৫৭ ডলার ৩৭ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ১৭ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে বর্তমানে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু সরবরাহ ঘাটতি নয় বরং অতিরিক্ত সরবরাহ। পণ্যটির বাজারে বর্তমানে ‘কন্ট্যাঙ্গো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কারণ এখন ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির ছয় মাস মেয়াদি দামের ব্যবধান অনেক বেশি। উল্লেখ্য, ভবিষ্যতের সরবরাহ মূল্য বর্তমান মূল্যের তুলনায় বেশি হলে বাজারে কন্ট্যাঙ্গো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দাম কমার আশঙ্কা না করে বরং আরো বেশি মূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে মজুদ বাড়াতে থাকেন।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল বাড়বে, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেল। ২০২৬ সালে তা আরো দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

আইইএ হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রবৃদ্ধি দ্রুত হচ্ছে। সংস্থাটি এ বছর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে দৈনিক ৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করেছে, যা আগের তুলনায় ৩০ হাজার ব্যারেল কম। আইইএর বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের বাকি সময় এবং ২০২৬ সালজুড়েই জ্বালানি তেল ব্যবহারের গতি নিম্নমুখী থাকবে। বছরে গড়ে চাহিদা বাড়বে মাত্র সাত লাখ ব্যারেল করে।

অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার আবারো সতর্ক করেছেন, ভারত যদি রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানি না কমায় তাহলে ওয়াশিংটন ‘বড় শুল্ক’ বজায় রাখবে।

আরও